প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর শান্তি আলোচনায় বসেছিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ২১ ঘণ্টার বৈঠক শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় কিছু দাবি-দাওয়ার কারণে। তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অন্যকে এ জন্য দায়ী করলেও কিছু মৌলিক শর্তে কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয়। উভয় দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি বিদ্যমান রয়েছে। তবে সেটা আর কতক্ষণ বজায় থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। কারণ, ইরানের বন্দরে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে তেহরান।
দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা আশার আলো দেখলেও ইরানি প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ ছেড়ে যাওয়ায় সেটিও ম্লান হয়ে গেছে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান সফর স্থগিত করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দিক। কিন্তু তেহরানের দাবি, এটি তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। আর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ। সুতরাং এই প্রকল্পের প্রশ্নে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, মূলত পাঁচটি শর্তের কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার শান্তি আলোচনা থমকে আছে। এগুলো হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া, ইরান যেন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এ ছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করুক। কিন্তু তেহরান এ দাবিতে মানতে নারাজ। তাদের ভাষ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে যে কোনো ধরনের বিধিনিষেধ শুধু নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য হতে পারে, স্থায়ীভাবে নয়।
ইউরেনিয়াম মজুত
বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চান, এই ইউরেনিয়ামের পুরোটা যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে মিত্র রাশিয়া ইরানের কাছে থাকা ইউরেনিয়াম নিজেদের সুরক্ষায় নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের সঙ্গে পুতিনের দ্বন্দ্ব ও ইউরেনিয়াম প্রত্যাশা বিষয়টিকে বেশ জটিল করে তুলছে।
হরমুজ ও বন্দর অবরোধ
যুদ্ধবিরতি হলেও ইরানের উপকূলীয় বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংন আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রাখবে ইরান। অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।
জব্দকৃত সম্পদ
একটি দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিদেশে আটকা পড়া প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ
আলোচনায় ইরান এক বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) ডলার দিতে হবে।