মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির প্রসার, সামাজিক পরিবর্তন এবং নতুন প্রজন্মের মানসিকতার কারণে সন্তান লালন–পালনের ধরনেও পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শহর ও গ্রামের মিশ্র সংস্কৃতির প্রভাবে অভিভাবকদের শাসন পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের মতো কঠোর শাসন এখন আর কার্যকর নয়; বরং তা অনেক ক্ষেত্রে সন্তানদের মধ্যে ভীতি, দূরত্ব ও বিদ্রোহী মনোভাব তৈরি করছে। তাই শাসনের ধরনে আনতে হবে ভালোবাসা, বোঝাপড়া এবং বাস্তবতার সমন্বয়।
ভয় নয়, ভালোবাসায় শাসন
অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করা। তাদের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভুল করলে তা বুঝিয়ে বলা—এটাই হওয়া উচিত আধুনিক শাসনের মূল ভিত্তি।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা
মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া এবং নজরদারি রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পারিবারিক পরিবেশে ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। তবে এর পাশাপাশি মানবিকতা, সহনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপরও জোর দিতে হবে।
অন্যদের সাথে তুলনা না করে সন্তানের নিজস্ব প্রতিভা বিকাশে সহায়তা করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় শিশুর মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে।
শহর ও বন্দরনগরী হওয়ায় চট্টগ্রামে কিশোরদের খারাপ সঙ্গ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সন্তানের বন্ধু ও চলাফেরার ওপর নজর রাখা জরুরি।
ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী হলে সন্তান সঠিক পথে চলতে বেশি আগ্রহী হয়।
অভিভাবকদের আচরণই সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা। তাই নিজের আচরণে সততা, ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে শাসনের ধরনে আনতে হবে ইতিবাচক পরিবর্তন। ভালোবাসা, সচেতনতা এবং পারিবারিক বন্ধনের সমন্বয়ই হতে পারে সুস্থ ও সুন্দর প্রজন্ম গড়ার মূল চাবিকাঠি।