মুহাম্মদ আকতার উদ্দিন
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর বিভিন্ন স্থানে তীর রক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বাজালিয়া বোমাংহাটের জনসাধারণের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর পাড় রক্ষা বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগের কথা বলা হয়। কিন্তু বর্ষা শেষ হয়ে গেলে সেই উদ্যোগও থেমে যায়। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
সত্যপীর এলাকায় চট্টগ্রাম-বান্দরবান মহাসড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে যানবাহন আটকা পড়েছে।
বন্যার পানিতে বাজালিয়া, মাহালিয়া, কেঁওচিয়া, ছদাহা, চরতি, এওচিয়াসহ সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে, তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জনজীবন।
এদিকে, বাজালিয়া কলেজ ও নাজমুল উলুম মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যায় মানুষ ছাড়াও গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। অনেক কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয় ও পশুখাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে।
দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং সাঙ্গু নদীর স্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতি বছরের পুনরাবৃত্ত বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।