বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে গত দুই মাস ধরে লোকালয়ে বন্য হাতির অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত হাতির পাল লোকালয়ে নেমে আসায় মসজিদে নামাজ, মন্দিরে পূজা এমনকি স্কুলে যাতায়াত নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা। এ সময়ে শত শত শতক ধানের বীজতলা, আখ ও বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মহৎবাড়ী এলাকার কৃষক আহমদুল হক বলেন, ঘরের সামনে রাখা প্রায় এক লাখ টাকার ধান রক্ষায় তাকে প্রায় প্রতিদিনই রাত জেগে পাহারা দিতে হচ্ছে। ভোরেও বাড়ির সামনে হাতির চলাচল দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই মাসে হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকায় বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর, আখক্ষেত ও নলকূপ ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ক্ষতির পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার পর মানুষ মসজিদ, মন্দির ও বিহারে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। স্থানীয়দের নিয়ে হাতি তাড়ানোর একটি কমিটি গঠন করলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, জনবল সীমিত হলেও নিয়মিত হাতি তাড়ানোর কাজ চলছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবেন। বনাঞ্চলে খাবার ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় হাতিগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে জানান তিনি।