বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সাপের কামড়ে জ্যোৎস্না সিংহ (৩৮) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জ্যোৎস্না ওই এলাকার উত্তম চৌধুরীর স্ত্রী। স্বজনদের ভাষ্য, রান্নাঘরের বারান্দায় বসে চা পান করার সময় তার ডান পায়ের গোড়ালির নিচে কিছু একটা কামড় দেয়। পরে তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের দাবি।
নিহতের দেবর মানস কান্তি চৌধুরী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে সময়মতো নেওয়া হলেও জ্যোৎস্নাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। অ্যান্টিভেনম দিলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজর্ষী নাগ বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে সাপের কামড় ছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রোগীর শরীরে সাপের ছোবলের নির্দিষ্ট ফ্যাং মার্ক বা বিষাক্ত সাপের কামড়ের নিশ্চিত লক্ষণ না থাকায় জাতীয় চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুসারে তাকে ‘আননোন বাইট’ হিসেবে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দিয়ে দ্রুত চমেকে পাঠানো হয়।
এদিকে স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশের সিনিয়র রেসকিউয়ার অয়ন মল্লিক ও আমির হোসাইন শাওন জানান, কামড়ের স্থান ও উপসর্গ বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে এটি পদ্ম গোখরো সাপের কামড় হতে পারে বলে তাদের ধারণা। তাদের ভাষ্য, এ সাপের নিউরোটক্সিন বিষ রক্ত পরীক্ষায় দ্রুত শনাক্ত হয় না। চোখের পাতা ঝুলে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক সোহাগ বলেন, “চমেকে যাওয়ার পথে নগরের রাস্তার মাথা এলাকায় হাটের দিনের কারণে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ি। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে হয়তো রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হতো।”