বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে দুই পরিবারের ভূমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে সেলিনা আকতার (৫৬) নামের এক মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতাসহ একই পরিবারের ৭জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বোয়ালখালী থানায় নিহতের ছেলে মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন। এতে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত সেলিনা আকতার বোয়ালখালী পৌরসভার উত্তর গোমদণ্ডী ২নাম্বার ওয়ার্ডের ফুলচাঁদ চৌধুরী বাড়ির মো.নাজেরের স্ত্রী।
মামলাটির প্রধান আসামি পৌর যুবদলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম চৌধুরী মানিকসহ এজাহার নামীয় আসামিরা একই এলাকার একই পরিবারের সদস্য।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর গোমদণ্ডী ফুলচাঁদ চৌধুরী বাড়ির চৌধুরী পুকুর পাড়ে আসামীরা হকিস্টিক নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মামলা বাদী মিজানুর রহমানকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এসময় ছেলের আত্মচিৎকার শুনে মা সেলিনা আকতার এবং পিতা মো. নাজের চৌধুরী এগিয়ে গেলে আসামীরা তাদেরকেও আহত করে। এর এক পর্যায়ে সেলিনা আকতারের ঘাড়ে লোহার রড এবং হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর তাকে পুকুরে ফেলে দেয় আসামিরা।সেলিনা আকতারকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।
যুবদল নেতা ইব্রাহীম চৌধুরীর অভিযোগ ওইদিন রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করছে। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এব্যাপারে তিনি থানায় দুই ভাই মিজানুর রহমান, মাহফুজুর রহমান এবং তাদের পিতা মো.নাজেরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তিনি এতে জানান, ওইদিন রাত ৯টার দিকে মোটর সাইকেল চালিয়ে ফুলচাঁদ চৌধুরী বাড়ীর ঘাটায় পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার গতিরোধ করে হামলা চালায়। এ সময় লোহার স্টিক দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ভূমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ৯ আগস্ট রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সেলিনা আকতার নামে এক মহিলাকে মৃত ঘোষণার পর নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ আইনী প্রক্রিয়ায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
এ বিষয়ে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনা তদন্ত ও আসামীদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ।