নিজস্ব প্রতিনিধি:
১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে নরসিংদীর চরহাজিপুর খাসের চর হাফেজ নগর দায়রা শরীফ থেকে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকালে হাফেজ নগর দায়রা শরীফ থেকে জুলুসটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নরসিংদী সদরে গিয়ে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা, মিলাদ ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্যবাহী চন্দনাইশ সাতবাড়ীয়া হাফেজ নগর দরবার শরীফের পীর-এ-তরিকত হযরত মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান হাফেজনগরী মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)।
আলোচনায় তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং রাসূলে পাক হযরত মুহাম্মদ (দঃ)-এর দরবারে দরুদ ও সালাম পেশ করেন। তিনি বলেন, “আমি আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (দঃ)-কে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।”
তিনি নিজেকে সুন্নি, হানাফি, মাইজভান্ডারী ও হাফেজনগরী এবং বংশগত সৈয়দ পরিবারের একজন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঈমানি ও রূহানি ঐতিহ্যকে ধারণ করে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) উদযাপনের ধারা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান বলেন, রাসূল (দঃ)-এর শুভ আগমনে আনন্দ প্রকাশ তাঁর কাছে কোনো পার্থিব উৎসব নয়; বরং এটি মহব্বত, শুকরিয়া ও ইশকের প্রকাশ। তিনি বলেন, কাউকে ঘৃণা বা অবমাননা নয়, বরং হিদায়াতের জন্য দোয়া করাই তাঁর নীতি। তবে দ্বীনের নামে বিভেদ, বিদ্বেষ ও স্বার্থসিদ্ধির প্রবণতার সঙ্গে সত্য ও মহব্বতের পথে আপস করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সত্যের পক্ষে তাঁর সংগ্রামের পথ হবে ইলম, আদব, দলিল, সবর ও উত্তম চরিত্রের পথ। ঘৃণার জবাব ঘৃণায় নয়, বরং ইশকে রাসূল (দঃ)-এর নূর দিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা শেষে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্ব শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ)-এর কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।