বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পী বড়ুয়া (২৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাটের ১৩ নম্বর পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পম্পী রাউজান উপজেলার গজারিয়া এলাকার ভাগ্যধন (ননায়) বড়ুয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী স্ববীন বড়ুয়া বুলবুল। তাঁর বাড়ি একই উপজেলার ইদিলপুর গ্রামে।
পম্পীর ভাই জুয়েল বড়ুয়া বলেন, চাকরির জন্য এক দিন আগে চট্টগ্রাম নগরে যান পম্পী।
একটি পোশাক কারখানায় সাক্ষাৎকার দেন তিনি। পরে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর চাকরি হয়েছে। পরদিন কাজে যোগ দিতে বলা হয়।
রোববার কাজে যোগ দিতে গেলে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর চাকরি হয়নি।
জুয়েল বলেন, এরপর পথে ছিনতাইকারীরা পম্পীর মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে বিষয়টি জানান তিনি।
“শেষে বলে, ‘ভালো থাকিস।’ এটাই ছিল পম্পীর সঙ্গে আমার শেষ কথা,” বলেন জুয়েল।
স্থানীয়রা জানান, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম নগরের দিকে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পীর মৃত্যু হয়।
গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে প্রবাল এক্সপ্রেস গোমদণ্ডী স্টেশন ছাড়ে। এরপর এক নারী ট্রেনে কাটা পড়েছেন বলে খবর পান তিনি।
বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনার পর রেললাইন থেকে মরদেহ সরাতে সময় লাগে। এতে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আটকে যায়।
লাইন পরিষ্কার করার পর প্রায় ৪৫ মিনিটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পম্পীর ভ্যানিটি ব্যাগে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের একটি ছাড়পত্র পাওয়া যায়। ওই ছাড়পত্রের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ছাড়পত্রে তাঁর গ্রামের বাড়ি রাউজান উল্লেখ রয়েছে। এটি গত ২০ জানুয়ারি ইস্যু করা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে যায় রেলওয়ে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।