পটিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু তরুণকে পিটিয়ে হত্যার দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটি বিভ্রান্তিকর ও পুরোনো ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “চট্টগ্রামের পটিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হিন্দু তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়” শিরোনামে একটি ফটোকার্ড/পোস্ট বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। প্রচারিত পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, পার্থ বিশ্বাস নামে এক হিন্দু তরুণকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মুসলিম ব্যক্তি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মারধর করে হত্যা করেছে।
প্রচারিত ফটোকার্ডটির তথ্য সঠিক নয়; বরং এটি সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও পুরোনো ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন।
প্রকৃতপক্ষে, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবি ও সংবাদের সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের পটিয়ার একটি পুরোনো ঘটনার ছবি। ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পার্থ বিশ্বাস পিন্টু নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে পার্থ বিশ্বাস পিন্টুকে মারধর করে হত্যা করার কোনো তথ্য নেই। তৎকালীন প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর গ্রেপ্তার এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
অতএব, ২০২৪ সালের একটি পুরোনো ঘটনার ছবি ও তথ্যকে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে তার সঙ্গে “পিটিয়ে হত্যা”র মিথ্যা দাবি সংযোজন করা হয়েছে। এ ধরনের অপতথ্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পুরোনো ছবি, সংবাদ বা ভিডিওর সঙ্গে নতুন ও মনগড়া তথ্য যুক্ত করে প্রচার না করার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে। কোনো ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আগে তথ্যের উৎস, প্রকাশের তারিখ ও প্রেক্ষাপট যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না; তথ্য যাচাই করুন।
পুরোনো ঘটনার ছবি ব্যবহার করে নতুন ঘটনা তৈরির অপপ্রচার থেকে বিরত থাকুন।