নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নিয়োগবঞ্চিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রার্থীরা।
আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার পর মিছিল নিয়ে নিয়োগ বঞ্চিতরা শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বেলা ২ টা ৪৮ মিনিট) এখনও শাহবাগে অবস্থান করছেন তারা।
শাহবাগ থানার সামনে টিএসসি অভিমুখে সড়কে মেট্রোরেলের নীচে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছেন। ফলে সড়কে যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেছেন, প্রতিনিধি দল ফিরে না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। ভোলা থেকে আসা এস এম খোকন দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগাযোগ করলে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলার জন্য আমাদের সাতজন প্রতিনিধি সচিবালয়ে গেছেন। তারা না আসা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।'
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা থেকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া সুপারিশপ্রাপ্ত রুবেল প্রধান দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, '৮ ফেব্রুয়ারি আমি সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। পরবর্তীতে মার্চ ও এপ্রিলে ১৫তম গ্রেডের দুটি সরকারি চাকরির ভাইভা থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দেব ধরে নিয়ে আমি সেগুলোতে অংশ নেইনি। এমনকি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের একটি সরকারি চাকরিতেও যোগ দিইনি; কারণ টিউশনি করে পড়াশোনা করা এই শিক্ষকতা পেশাটার প্রতি আমার আলাদা একটা ভালোবাসা ছিল। কিন্তু আজ আট মাস পর ২৪ তারিখে আমার নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি' তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নের পাঁচজনের মধ্যে চারজনের নিয়োগপত্র আসেনি।
'সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ' ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা।
গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধীরাজু ভাস্কর্যদ এক সংবাদ সম্মেলন থেকে রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেন চাকরিপ্রার্থীরা। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে দাবি করা হয়, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে অন্তত ২ হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।