শহিদুল ইসলাম
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানের বান্দরবানে বদলি বাতিল, ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীর সিভিল সার্জন পদে পুনর্বহাল বাতিল এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিরোধে কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিপ্লবী ছাত্র ঐক্য, বান্দরবান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বান্দরবানকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘শাস্তিমূলক বদলি’ বা পুনর্বাসনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার না করার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওষুধ, কেমিক্যাল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে অতীতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এ ঘটনায় ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে ওএসডি করার পর পুনরায় বান্দরবানের সিভিল সার্জন পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এছাড়া টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে রোয়াংছড়িতে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তাদের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পার্বত্য জেলায় শাস্তিমূলক বদলির প্রথা বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আসামিদের কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হয়ে বাদী, সাক্ষী ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরীর পুনর্বহাল বাতিল ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, কাজী ফাত্তাউর রহমানের রোয়াংছড়িতে বদলি বাতিল, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক বদলি বন্ধ, মামলার আসামিদের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা, বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বান্দরবানের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইমদাদুল হক মিলন, সৈয়দ মাশরুর জিসান, মো. আরাফাত, মো. হাসান, অংসিং মারমা, উথোয়াই মারমা ও তরিকুল হাসানসহ অন্যান্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বক্তারা বলেন, বান্দরবানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।