বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
শরতের কাশফুল আর উৎসবের আমেজের মধ্যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি।
উপজেলায় এবার ৯৭টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী মণ্ডপ। স্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চনা হলেও প্রতিমা বিসর্জন হবে না। অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতে পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) উপজেলার আমুচিয়া মাস্টার বাজার এলাকার শ্রী শ্রী রামঠাকুর শিল্পালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গা প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজও চলছে। মাটি, পাট, সুতা ও খড়সহ বিভিন্ন উপকরণে তৈরি হচ্ছে প্রতিমা।
প্রতিমা শিল্পী শানু দেব বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও তাঁরা দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এরই মধ্যে কাজ প্রায় অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাইরের কাজ শেষ হলেও কারখানার কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এ বছর তাঁরা ১৮টি প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছেন। বর্তমানে ছয়জন মিলে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়েছে। পাট ও মাটির দামও বেড়েছে। কাজের শুরুতে ব্যস্ততা ও চাপ থাকলেও প্রতিমা তৈরি শেষে মণ্ডপে স্থাপন করা হলে অন্যরকম আনন্দ তৈরি হয়।
এদিকে আমুচিয়া এলাকার নবারণ সাহিত্য পরিষদ পূজামণ্ডপে চলছে মণ্ডপসজ্জার কাজ। সাজসজ্জার দায়িত্বে থাকা সাজু দেব বলেন, প্রায় তিন মাস আগে থেকে তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। এখনো পুরো কাজ শেষ হয়নি। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তাঁরা।
বোয়ালখালীর কয়েকটি পূজামণ্ডপে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়। এর মধ্যে বীণাপাণি ও দেবান পাঠাগার পূজামণ্ডপে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি থাকে বলে জানান শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী।
তিনি বলেন, বীণাপাণিসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নানা থিমে সাজসজ্জা করা হয়। এসব মণ্ডপ দেখতে চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন। এবারও প্রস্তুতি ভালোভাবে চলছে। পূজা চলাকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি থাকবে। স্থানীয়ভাবেও সহযোগিতা করা হবে।
পূর্ব শাকপুরা মাতৃমন্দিরের পূজারি বিপ্লব চক্রবর্তী বলেন, ১০ অক্টোবর মহালয়া শুরু হচ্ছে। এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে ঘোটকে এবং গমন হবে নৌকায়।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, দুর্গাপূজা যাতে নির্বিঘ্ন ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি সদস্য ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূজা চলাকালে সার্বক্ষণিক তদারকি থাকবে।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, বোয়ালখালীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়ে থাকে। এবার উপজেলায় ৯৭টি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ১০টি স্থায়ী ও ৮৭টি অস্থায়ী।
তিনি বলেন, ৯৭টি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এসআরবি টহল টিমও থাকবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।