বোয়ালখালী(প্রতিনিধি)চট্টগ্রাম :
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করেছিলেন স্নেহাশ্রী চৌধুরী। তবে উচ্চমাধ্যমিকে নিজের আগ্রহের জায়গা থেকে বেছে নেন মানবিক বিভাগ। পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন আর অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন বোয়ালখালীর এই শিক্ষার্থী।
পটিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী স্নেহাশ্রী ১ হাজার ১৫৫ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৪ হাজার ৩৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তাঁর এ অর্জন।
স্নেহাশ্রীর বাড়ি বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম শাকপুরা এলাকায়। তাঁর বাবা স্নেহাশিস চৌধুরী ও মা জয়শ্রী দাস। পশ্চিম শাকপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে পশ্চিম শাকপুরা শ্রী অরবিন্দ উচ্চ বালিকা বিদ্যাপীঠ থেকে ২০২৪ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন পটিয়া সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগে।
এর আগে ২০২৩ সালের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় বোয়ালখালী উপজেলা পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী’ নির্বাচিত হয়েছিলেন স্নেহাশ্রী।
এবারের ফল নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে স্নেহাশ্রী বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি বোর্ডে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করব। পরীক্ষা শেষে অনেকের কাছে বলেছিলাম, পরীক্ষা কিছুটা খারাপ হয়েছে। গোল্ডেন জিপিএ-৫-ও হয়তো আসবে না। কিন্তু যখন জানতে পারলাম দ্বিতীয় হয়েছি, তখন বিষয়টি আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।’
স্নেহাশ্রী জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোনো কোচিং করেননি তিনি। কলেজের শিক্ষকেরা যেভাবে পড়িয়েছেন ও পরামর্শ দিয়েছেন, সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছেন। প্রয়োজনে রাতেও শিক্ষকদের কাছ থেকে পড়া সংগ্রহ করেছেন। শিক্ষকেরা কখনো নিরাশ করেননি, বরং সব সময় সহযোগিতা করেছেন এবং স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করলেও উচ্চমাধ্যমিকে মানবিক বেছে নেওয়ার পেছনে ছিল সংগীতের প্রতি ভালোবাসা। স্নেহাশ্রী বলেন, ‘নিজের ইচ্ছাতেই মানবিক বিভাগ নিয়েছি। আমার সংগীত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে। আমি বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্রের তালিকাভুক্ত যুবশিল্পী। চেয়েছি, পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চাও যেন হারিয়ে না যায়। তাই দুটো বিষয় সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
পড়াশোনার জন্য নিজের মতো করে একটি রুটিন তৈরি করেছিলেন স্নেহাশ্রী। প্রতিদিনের কাজের তালিকা বা ‘টু-ডু লিস্ট’ তৈরি করতেন। আগের দিনই পরদিনের পড়ার পরিকল্পনা ঠিক করে রাখতেন। তালিকার প্রতিটি কাজ শেষ হলে তাতে টিক চিহ্ন দিতেন। পড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতেন।
তবে ভালো ফলের জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো কথা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়াশোনা করাই গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্নেহাশ্রী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুবান্ধব ও সঙ্গ নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। ভালো সঙ্গ মানুষকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। বাবা-মায়ের দিকনির্দেশনার কারণে তিনি সব সময় খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে পেরেছেন।
নিজের সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে স্নেহাশ্রী বলেন, তাঁদের প্রচেষ্টা, শিক্ষকদের আশীর্বাদ ও সবার ভালোবাসায় এ ফল অর্জন সম্ভব হয়েছে।
মা জয়শ্রী দাস বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমার মেয়ের একার নয়, এটি তার উপজেলার জন্যও গর্বের। তার পরিশ্রম ও মেধার কারণেই আজ সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।’
পটিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, স্নেহাশ্রী চৌধুরী ৪৪ হাজার ৩৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৫৫ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫সহ মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। তাঁর এ সাফল্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ আনন্দিত ও গর্বিত। স্নেহাশ্রীর এই অর্জন কলেজের অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।