
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নিয়মিত চালক রয়েছেন একজন। সেই চালক ছুটিতে থাকায় জরুরি রোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠাতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনেরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত এক যুবককে চমেকে পাঠানোর ক্ষেত্রে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাঁকে হাসপাতালে নিতে হয়।
আহত যুবকের নাম রাশেদ আলম (৩৩)। তিনি উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের আবুল কালামের ছেলে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে পোপাদিয়া ইউনিয়নের আকুবদণ্ডী ব্যাগের টেক এলাকায় যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে গাছ কাটার সময় গাছ থেকে পড়ে আহত হন তিনি।
স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন রাশেদ। তাঁর ডান হাত, দুই পা ও মাথায় আঘাত লাগে। এ সময় তাঁকে চমেকে নেওয়া নিয়ে উদ্বেগে পড়েন স্বজনেরা। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেকে পাঠানোর পরও তাঁকে দেড় ঘণ্টার বেশি জরুরি বিভাগের বেডে অপেক্ষা করতে হয়। পরে অনেক চেষ্টায় একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাঁকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ওহিদুল আলম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক ছুটিতে থাকায় জরুরি রোগীকে চমেকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। তাঁর দাবি, চালক চার দিনের ছুটিতে ঢাকায় গেছেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প চালকের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীকে নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উম্মে শারমিন বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে আঘাত ছিল। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে চমেক হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্সচালক সোহাগ অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ায় ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্য একটি গাড়ির চালককে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য দুটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় বিকল্প চালকসহ তিনটি অ্যাম্বুলেন্সই রোগী নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে ছিল। অন্য একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা থাকায় সেটির চালক আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। রোগীর স্বজনেরাও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সময়ে বিকল্প অ্যাম্বুলেন্সগুলো শহরে থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা সচরাচর ঘটে না বলেও জানান তিনি।