
বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে জান্নাতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছে আসা মৌলভীদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি বক্তা পীর মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরি। মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ এবং মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদকারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের হাজী আজগর আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তাহেরি।
তাহেরি বলেন, “আমাদের দেশে জান্নাতের টিকিট দেয় ডাব্লিউ মৌলভীরা। আবার কিন্তু স্থানীয় নির্বাচন আসতেছে। দেখবেন, টিকিট নিয়ে কিন্তু ঘরের দরজায় আসবে। তাদের সরাসরি বলে দিবেন, তোদের টিকিট আমাদের লাগবে না।”
শিশুকে চুম্বন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক হুজুরকে থাপ্পড় মারার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তাহেরি বলেন, “এক হুজুর বাচ্চারে চুম্বন দিছে। এক ছেলে গেছে, কেন চুম্বন দিল, হুজুরকে দিছে থাপ্পড়। এক থাপ্পড়ে পুরো মৌলভীপাড়ায় আগুন লেগে গেছে।”
তিনি বলেন, “ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মাদ্রাসায় পড়বে, তুমি তারে চুম্বন দিবে কেন? কারণ, যেহেতু ইতিহাস আছে, অনেক মাদ্রাসার ভিতরে বলৎকার হচ্ছে। তোমার তো এখন চুম্বন দিতে গেলেও সাবধানে দিতেই হবে, যেহেতু ইতিহাস ভালো না।”
তাহেরি বলেন, “এখন সব মৌলভীরা বলে, চুম্বন দিছে, বাচ্চা আদর করছে, সুন্নত। হুজুরকে মারছে, বিচার চাইতেছে। দেশে আইন আছে, আইনের বিচার আছে। আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে মারল কিসের জন্য? যখন মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে বলৎকার করে, তখন তোমাদের প্রতিবাদ কোথায় থাকে?”
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এরপরে তারা বলে, আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক না। মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিনকে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) তৈরি করে হত্যা করল, তখন তোমাদের নীতিবাক্য কোথায় ছিল?”
মৌলভীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তাহেরি বলেন, “এখন আগুন উঠে গেছে। দালাল মৌলভীগুলা—এগুলা দালাল। যেই দল ক্ষমতায় আসে, এটার সাথে থাকে অর্ধেক। যেই দল ক্ষমতায় থাকে না, তাদের সাথে থাকে বাকি অর্ধেকের অর্ধেক। আর বাকিটা থাকে বিরোধী দলের সাথে। আরেকটা থাকে তলে তলে বান্ডিল নেওয়ার জন্য।”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল গাজীপুরে মাওলানা মুহাম্মদ রইস উদ্দিনকে ধর্ষণ বা অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে একদল লোক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা নির্যাতনের পর তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। পরে গাজীপুর জেলা কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ এপ্রিল ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।