
বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপের সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মাজেদুল হক ও তার স্ত্রী রেশমা আকতার ঝুমুরের সংসারে দুই বছর পর এসেছিল একমাত্র সন্তান মিশকাত। পাঁচ মাস আগে ছেলেকে ঘিরে আনন্দে ভরে উঠেছিল পরিবার। ছোট্ট শিশুটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন মা-বাবা। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল মাত্র পাঁচ মাস ১৫ দিনের মাথায়।
গত শুক্রবার (৮ মে) হঠাৎ জ্বর, কাশি ও সর্দিতে আক্রান্ত হয় শিশু মিশকাত। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়।
চমেকের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। আইসিইউ বেড খালি না থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে বাইরে কোনো হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকেও রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আবার চমেকে পাঠানো হয়। তখনও আইসিইউ বেড খালি ছিল না।
হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সন্তানকে বাঁচাতে হাসপাতালের এদিক-ওদিক ছুটছিলেন বাবা মাজেদ। অবশেষে মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও আর শেষ রক্ষা হয়নি। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক পাঁচ মাস ১৫ দিনের শিশু মিশকাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিশকাতের মামা রিপন জানান,আছরের নামাজের পর চরণদ্বীপের নিজ বাড়িতে বাবার কোলেই শেষবারের মতো আনা হয় ছোট্ট মিশকাতকে। পরে মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা মাজেদুল হক ও মা রেশমা আকতার ঝুমুর। সন্তানের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শিশু মিশকাতের বাবা মাজেদ বলেন, “একবারও বাবা ডাক শুনতে পারলাম না। ছেলেটাকে বাঁচানোর জন্য সব জায়গায় ছুটেছি। কিন্তু আল্লাহ আমার সন্তানকে নিয়ে গেল।”