শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০২:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাজুয়ায় আব্দুল মান্নান খানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল সম্পন্ন। কোলাগাঁও ইউনিয়নে দুই সন্তানের জননী সোনিয়া আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর ম/র/দে/হ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বোয়ালখালীতে ১২০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে বিনামূল্যে বীজ-সার বোয়ালখালীতে মৎস্যচাষীর মাঝে মাছ চাষের প্রদর্শনী উপকরণ বিতরণ রিহ্যাবে সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হাটহাজারীতে শুরু হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নিয়েছেন ৪১৯২ পরীক্ষার্থী গৃহবধূর আ/ত্ম/হ/ত্যা/র ঘটনায় দায়ের হওয়া মা/ম/লা/য় স্বামীকে গ্রে/প্তা/র করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ পটিয়ায় আমির ভান্ডার সংসদের নবনির্বাচিত সভাপতি  পেয়ারুল মোস্তফা শাহ আমিরী  সংবর্ধিত  পটিয়ায় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ভাটিখাইন ইউনিয়ন ৪-২ গোলে হারালো কাশিয়াইশ ইউনিয়নকে জনসচেতনতার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটাতে হবে

বোয়ালখালীতে শিখা-টিপুদের মাঠে ভেজা ধান, রোদহীন দিনে বাঁচানোর লড়াই

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ২৪৭ বার পড়া হয়েছে

বোয়ালখালী প্রতিনিধি:

মাঠজুড়ে ছড়িয়ে রাখা ভেজা ধান নাড়াচাড়া করছেন শিখা দে ও টিপু দে। রোদ না থাকলেও আশা ছাড়েননি তারা—যতটুকু সম্ভব ধান শুকিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুইরগ্যা বিলে নিজেদের ৮০ শতক জমির পাকা ধান কেটে জমিতে রেখেছিলেন এই দুই কৃষাণী। কিন্তু হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে সেই ধান ভিজে যায়। পরে ৬ জন শ্রমিককে এক হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দিয়ে ধান ঘরে তুললেও এখন ভেজা ধান শুকানো নিয়েই তাদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
শুধু শিখা-টিপু নন, একই চিত্র পুরো বোয়ালখালীজুড়েই। কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠে কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।
নাগাড়া বিলের কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্বপন কান্তি বড়ুয়া বলেন, এ বছর ১২০ শতক জমিতে ধান চাষে প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
জৈষ্ঠ্যপুরা বাক্ষন বিলের কৃষক লিটন চৌধুরী জানান, তার ১৬০ শতক জমির ধান পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যেখানে প্রায় ৪০০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা ছিল, সেখানে এখন মিলবে মাত্র ১৫০ আড়ি। এতে তিনি প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকেরা জানান, ধান কাটার শেষ সময়ে টানা তিন দিনের ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে মাঠে লুটিয়ে পড়ে পাকা ধান। উপজেলার কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী চরখিজিরপুর, পশ্চিম গোমদণ্ডী, পশ্চিম শাকপুরা, পোপাদিয়া, সারোয়াতলী, শ্রীপুর খরনদ্বীপ, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গাসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে ১০ হেক্টর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে, বাকি ৯৫ শতাংশ এখনও মাঠে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পুরো ধান কাটতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews