
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় পাস করেছে ১ হাজার ৩৯০ জন। ফেল করেছে ১ হাজার ৩১৬ জন। উপজেলায় মোট ২ হাজার ৭০৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৫১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনলাইনে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বোয়ালখালীর চারটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৫০৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ২৩৫ জন। ফেল করেছে ১ হাজার ২৭১ জন। কলেজগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।
কলেজগুলোর মধ্যে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে ১ হাজার ৫৮১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৯২৮ জন। ফেল করেছে ৬৫৩ জন। এ কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন।
বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে ৬৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩৬ জন। ফেল করেছে ৪৬৩ জন। কধুরখীল জলিল-আম্বিয়া কলেজ থেকে ৫০ জনের মধ্যে পাস করেছে ১৬ জন। ফেল করেছে ৩৪ জন। হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৭৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ৫৫ জন। ফেল করেছে ১২১ জন।
অন্যদিকে, উপজেলার ছয়টি মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩৬ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৯ জন এবং ফেল করেছে ৩৭ জন। মাদ্রাসাগুলো থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে হাওলা কুতুবিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ১৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন। বেঙ্গুরা সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ২০ জনের মধ্যে পাস করেছে ১০ জন।
কধুরখীল ইসলামীয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে ৩৭ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৩ জন। এ মাদ্রাসা থেকে একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসা থেকে সাতজনের মধ্যে পাস করেছে তিনজন। শাকপুরা দারুসসুন্নাহ কামিল মাদ্রাসা থেকে ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩৩ জন।
এ ছাড়া বোয়ালখালী সিরাজুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের ভোকেশনাল শাখা থেকে ৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৬ জন। ফেল করেছে আটজন।
ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বোয়ালখালী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সালমা ইসলাম। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমে উদাসীনতা ও লেখাপড়ায় অমনোযোগিতার কারণে ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।