
বোয়ালখালী প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ শ্রমিক নূর নবী হৃদয় (২৫) চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে তার মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত হৃদয় বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরখিজিরপুর গ্রামের উত্তর সাতঘড়িয়াপাড়ার নুরুচ্ছফার ছেলে। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে করেন তিনি। তার এক বছর দুই মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কন্ট্রাকটারের মাধ্যমে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন হৃদয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কারখানাটিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় হৃদয়সহ ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। হৃদয়ের শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাকে প্রথমে চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হৃদয়ের খালা নার্গিস আক্তার বলেন, আইসিইউতে নেওয়ার আগে হৃদয় পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “চোখ পুড়ে গেছে, শেষবারের মতো আমার ছেলেকে আর দেখতে পাচ্ছি না। বাবা ও বোনদের বলেন, আমাকে আওয়াল-আখেরে মাফ করে দেন। আমার মাসুম বাচ্চাটাকে দেখে রাখবেন।”
এটাই ছিল পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের শেষ কথা বলে জানান তিনি।
হাসপাতালে মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্ত্রী, মা-বাবা ও স্বজনরা শোকে ভেঙে পড়েন। এক বছর দুই মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় ১১ শ্রমিক দগ্ধ হন। এই বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত চার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত অন্যরা হলেন পটিয়ার নুরুল আলম, বোয়ালখালীর দিদার আলম এবং রাঙ্গুনিয়ার উজ্জ্বল দাশ। আহত অন্য শ্রমিকদের কয়েকজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।