
সত্যিই,জীবন কোনো রঙিন সুতোয় বাঁধা নিশ্চিন্ত গল্প নয় আমরা ভাবি এক ঝড়ের মেঘ কেটে গেলে বুঝি আকাশ চিরতরে পরিষ্কার হয়ে যাবে, কিন্তু জীবন
আমাদের বারবার সেই মেকি আশার থেকে দূরে সরিয়ে এনে কঠোর বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করায়।
অবিরাম ঢেউয়ের ঘর্ষণে যেমন সমুদ্রতীরের পাথর
গুলোর রূপ বদলে যায়, তেমনি পর পর আসা আঘাত
গুলোও আমাদের ভেতরের পুরনো সত্তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়। একটি ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন ক্ষতের সৃষ্টি
আমাদের ক্লান্ত করে, নিঃস্ব করে। তখন মনে হয়—আর কত?
কিন্তু এই ভাঙনের ভেতরই লুকিয়ে থাকে এক
অলৌকিক পুনর্জন্ম। প্রতিটি আঘাত যখন আমাদের চেনা রূপটাকে ভেঙে দেয়, তখন সেই ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলোর মাঝখান থেকেই জন্ম নেয় একজন নতুন ‘আমি’। আগের থেকে কিছুটা বেশি সহনশীল, কিছুটা শক্ত,
আর অনেকটা বেশি অভিজ্ঞ এক মানুষ। জীবন হয়তো শান্তির কোনো গ্যারান্টি দেয় না, কিন্তু
নিজের অজান্তেই সে আমাদের শিখিয়ে দেয় যেকোনো মূল্যে টিকে থাকার কৌশল।
আমরা থমকে যাই, কাঁদি, হয়তো সাময়িকভাবে
নিঃস্ববোধ করি; কিন্তু জীবনের গতি থামে না। ভাঙা টুকরোগুলোকে আবার কুড়িয়ে নিয়ে নিজের
অজান্তেই আমরা নতুন করে জোড়া লাগাই। আগের মানুষটা হয়তো হারিয়ে যায়, কিন্তু যে নতুন
মানুষটি জন্ম নেয়—সে আরও বেশি আলো চেনার ক্ষমতা রাখে।
ক্ষত নিয়েই হেঁটে চলা, আঘাতকে সাথে নিয়েই প্রতি
ভোরে আবার নতুন করে নিঃশ্বাস নেওয়া—সম্ভবত এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় জয়। হয়তো এটাই আমাদের অস্তিত্বের আসল সার্থকতা