
রাউজান প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা-২০২৬’। ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, সেবা কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা এবং ভূমি সংক্রান্ত হয়রানি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করেছে রাউজান উপজেলা ভূমি অফিস।
জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাউজান উপজেলা পরিষদ চত্বরে বেলুন উড়িয়ে ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম রাহাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ জাহান সিকদার। এতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মনির হোসেন, কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন ফাহিম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার স্বজল চন্দ্র চন্দ, সমবায় কর্মকর্তা মিন্টু বড়ুয়াসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অনলাইনে নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহসহ বিভিন্ন সেবা এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি কমছে এবং ভূমি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও হয়রানিও অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে।
এসময় রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতকৃত রাউজান উপজেলা ভূমি অফিসের রেকর্ড রুম এবং অফিসে আগত সেবা গ্রহণকারীদের জন্য একটি সুসজ্জিত দর্শনার্থী কক্ষ উদ্বোধন করা হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে আরও সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হবে।
এর আগে প্রশাসক রাউজান থানা পুলিশের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এছাড়া তিনি রাউজান অফিসার্স ক্লাব ও রাউজান উপজেলা গেস্ট হাউসের জলছায়া উদ্বোধন করেন। হালদা পাড়ের জেলেদের বিকল্প আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৭৫ জন জেলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সেলাই মেশিন, স্ট্যান্ড, চেয়ার ও ড্রাই আয়রন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও অসচ্ছল মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা উপকরণ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ২১ জন উপকারভোগীর মধ্যে ৫০ হাজার টাকার এককালীন আর্থিক সহায়তাও বিতরণ করা হয়।