
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
বন্যার পানিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার পর নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।
সরকারি প্রণোদনা ও নিজেদের উদ্যোগে বীজতলা তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চলছে আমন রোপণ। আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ২৪৯ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আমন আবাদ নিয়ে শঙ্কায় পড়েন কৃষকেরা। পরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়।
সরেজমিনে জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে দেখা যায়, কোথাও জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে, কোথাও সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচ নিয়ে তাঁদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ।
জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম তিন কানি (১২০ শতক) বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন। তিনি বলেন, গত বছর প্রতি কানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষে খরচ হয়েছিল ৩ হাজার টাকা। এবার একই কাজে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা।
খোরশেদ বলেন, প্রতি কানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও এবার ৬০ আড়ির বেশি ফলন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি (২০০ শতক) বর্গা জমিতে সাদা পানজা ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, প্রতি কানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম হওয়ায় চাষ করে লাভ হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বীজতলার ঘাটতি কাটিয়ে কৃষকেরা যাতে আমন আবাদ করতে পারেন, সেজন্য তাঁদের সরকারি প্রণোদনার আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকেরা আবার আমন চাষে ফিরতে পেরেছেন।