
অন্তবর্তী সরকারের সময়ে ইসলামী ধারার ছয়টি ব্যাংকের কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মানববন্ধন থেকে ব্যাংকগুলোর সাবেক মালিক এস আলমের হাতে ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
এই মানববন্ধন থেকে তাদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের দাবিগুলো স্মারক আকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে মানববন্ধন শেষ হয়।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে হঠাৎ করেই মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন ব্যাংকগুলোর সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এসময় বর্তমান পর্ষদকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে পর্ষদ বাতিলের দাবি জানান তারা।
ব্যাংকগুলো হলো- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংকিং খাতে বৈষম্য ও গণহারে চাকরিচ্যুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান শীর্ষক এই মানববন্ধনে ওই ছয় ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান। একইসঙ্গে তারা দলীয় কর্মীদের অবৈধ নিয়োগ, অবৈধ চেয়ারম্যান জোবায়দুর রহমান, এমডি, এডিশনাল এমডি, ডিএমডিসহ জুলুমবাজ ম্যানেজমেন্ট ও পর্ষদের পদত্যাগ দাবি জানান।
জানা যায়, এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ছয়টি ব্যাংকের চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব কর্মকর্তা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। গত দুদিন ধরে তারা ঢাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেন। এমনকি শনিবার রাতেও শতাধিক মাইক্রোবাসে করে আরও লোকজন ঢাকায় পৌঁছান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পটিয়ার আল-আমিন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে কর্মরত ছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দ্রুত আমাদের চাকরি ফেরত দিতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে
চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল, এস আলমের হাতে ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। সে সময় বৈধ মালিক ও বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
তাদের আরও দাবি, ওই সময় থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক লোককে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে দেশের অন্যান্য জেলার প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন।
এর আগে এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে ডাকা হলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।